শেষ ট্রেনের আগে | একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প

 ‎

‎ঢাকার শহর কখনো ঘুমায় না।

‎রাত যত গভীর হয়, শহরের আলো তত বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উঁচু ভবনের জানালায় জ্বলে থাকা ছোট ছোট আলো, ব্যস্ত সড়কে ছুটে চলা গাড়ি, দূরের কোনো রেস্টুরেন্ট থেকে ভেসে আসা মানুষের হাসি—সব মিলিয়ে শহরটা যেন নিজের মতো করে বেঁচে থাকে।

শেষ ট্রেনের আগে একটি আবেগময় বাংলা ভালোবাসার গল্প

‎কিন্তু এই বিশাল শহরের মাঝেও কখনো কখনো একজন মানুষ নিজেকে ভীষণ একা মনে করতে পারে।

‎আরিয়ানও সেদিন ঠিক তেমনই একা ছিল।

‎অফিস থেকে বের হয়ে সে ধীরে ধীরে হাঁটছিল। হাতে ফোন। স্ক্রিনে খোলা ছিল একটি পুরোনো ছবি।

‎ছবিটায় দুজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল।

‎আরিয়ান আর নীলা।

‎ছয় বছর আগের ছবি।

‎ছবির নীলা হাসছিল। সেই হাসিটা এখনও আরিয়ানের মনে স্পষ্ট। এমন একটা হাসি, যেটা দেখলে মনে হতো পৃথিবীতে কোনো দুঃখ নেই।

‎আরিয়ান ছবিটার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

‎তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

‎ছয় বছর।

‎কী অদ্ভুত!

‎একসময় যে মানুষটিকে ছাড়া একটা দিনও কল্পনা করা যেত না, সেই মানুষটির সঙ্গে ছয় বছর কোনো কথা নেই।

‎আরিয়ান আর নীলার পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে।

‎প্রথম দেখায় নীলাকে আরিয়ানের খুব একটা ভালো লাগেনি।

‎কারণ মেয়েটি সবসময় তর্ক করত।

‎কোনো বিষয়ে নিজের মতামত থাকলে সেটা বলতে তার একটুও দ্বিধা ছিল না।

‎একদিন ক্লাস শেষে আরিয়ান মজা করে বলেছিল,

‎— তুমি কি সবকিছুতেই তর্ক করো?

‎নীলা ভ্রু কুঁচকে বলেছিল,

‎— না। শুধু যেখানে তুমি ভুল বলো, সেখানেই।

‎আরিয়ান হেসে ফেলেছিল।

‎— তাহলে তো আমার সঙ্গে তোমার অনেক তর্ক হবে।

‎নীলা একটু থেমে বলেছিল,

‎— সেটা নির্ভর করছে তুমি কতবার ভুল করো তার ওপর।

‎সেদিন থেকেই শুরু।

‎তর্ক থেকে বন্ধুত্ব।

‎বন্ধুত্ব থেকে এক অদ্ভুত টান।

‎আর তারপর একদিন তারা বুঝতে পারল—তারা একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছে।

‎তাদের প্রেম ছিল খুব সাধারণ।

‎কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে বসে গল্প করা, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে ফুচকা খাওয়া, কখনো কোনো কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা।

‎নীলা প্রায়ই বলত,

‎— তুমি জানো, আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবি না।

‎আরিয়ান জিজ্ঞেস করত,

‎— তাহলে কী নিয়ে ভাবো?

‎— আজকে তোমার সঙ্গে কতক্ষণ কথা বলব, সেটা নিয়ে।

‎আরিয়ান হাসত।

‎— যদি একদিন আমি তোমার থেকে অনেক দূরে চলে যাই?

‎নীলা তখন তার দিকে তাকিয়ে বলত,

‎— মানুষ দূরে গেলেই কি ভালোবাসা দূরে যায়?

‎আরিয়ান উত্তর দিতে পারত না।

‎সে শুধু নীলার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখত।

‎তখন তারা কেউ জানত না, একদিন সেই কথাটাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় শেষ হওয়ার পর আরিয়ানের জীবনে হঠাৎ একটি সুযোগ আসে।

‎একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি।

‎সিঙ্গাপুরে।

‎চাকরিটা ছিল তার স্বপ্নের মতো।

‎কিন্তু নীলাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই তার বুক ভার হয়ে আসত।

‎এক সন্ধ্যায় তারা নদীর ধারে বসেছিল।

‎আরিয়ান অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর বলল,

‎— আমাকে একটা কথা বলতে হবে।

‎নীলা হাসতে হাসতে বলল,

‎— এত গম্ভীর কেন?

‎— আমি সিঙ্গাপুরে একটা চাকরি পেয়েছি।

‎নীলার হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।

‎— কবে যেতে হবে?

‎— এক মাসের মধ্যে।

‎কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।

‎নীলা নদীর দিকে তাকিয়ে বলল,

‎— তুমি যাবে।

‎আরিয়ান অবাক হয়ে তাকাল।

‎— এত সহজে?

‎— সহজ না।

‎— তাহলে?

‎নীলা এবার তার দিকে তাকাল।

‎চোখে জল চিকচিক করছিল।

‎— তোমার স্বপ্নের জন্য আমাকে তোমাকে আটকাতে হবে না।

‎আরিয়ান তার হাত ধরল।

‎— আমি ফিরে আসব।

‎নীলা মৃদু হাসল।

‎— প্রতিশ্রুতি দিও না।

‎— কেন?

‎— কারণ প্রতিশ্রুতি ভেঙে গেলে মানুষটা শুধু দূরে যায় না, বিশ্বাসটাও চলে যায়।

‎আরিয়ান তার হাতটা আরও শক্ত করে ধরল।

‎— তাহলে একটা কথা বলি?

‎— বলো।

‎— যত দূরেই যাই, তোমাকে ভালোবাসা বন্ধ করব না।

‎নীলা কিছু বলল না।

‎শুধু তার কাঁধে মাথা রাখল।

‎প্রথম কয়েক মাস দূরত্ব তাদের ভালোবাসাকে আরও গভীর করেছিল।

‎প্রতিদিন ভিডিও কল।

‎প্রতিদিন অসংখ্য মেসেজ।

‎আরিয়ান অফিস থেকে ফিরে নীলাকে ফোন করত।

‎নীলা রাত জেগে তার সঙ্গে কথা বলত।

‎কখনো দুজনের মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব থাকত, তবুও মনে হতো তারা পাশাপাশি বসে আছে।

‎কিন্তু সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলাতে শুরু করল।

‎আরিয়ানের কাজের চাপ বাড়ল।

‎নীলারও নতুন চাকরি হলো।

‎ফোনের সময় কমে গেল।

‎একসময় প্রতিদিনের কথা সপ্তাহে কয়েক দিনে এসে দাঁড়াল।

‎তারপর শুরু হলো ভুল বোঝাবুঝি।

‎নীলা ভাবত, আরিয়ান বদলে গেছে।

‎আরিয়ান ভাবত, নীলা তাকে বুঝতে চাইছে না।

‎এক রাতে নীলা ফোন করেছিল।

‎অনেকক্ষণ কথা বলার পর হঠাৎ বলল,

‎— তুমি কি এখনও আমাকে ভালোবাসো?

‎আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

‎সেদিন সে ভীষণ ক্লান্ত ছিল।

‎তার ভুলটাই হয়েছিল।

‎সে বলেছিল,

‎— নীলা, সবকিছু এত সহজ না। ভালোবাসা দিয়ে জীবন চলে না।

‎ফোনের ওপাশে নীরবতা।

‎তারপর নীলা ধীরে বলেছিল,

‎— বুঝেছি।

‎— তুমি কী বুঝেছ?

‎— বুঝেছি, আমি তোমার জীবনে এখন একটা দায়িত্ব হয়ে গেছি।

‎— আমি সেটা বলিনি।

‎— কিন্তু তুমি সেটাই বুঝিয়েছ।

‎— নীলা...

‎— আরিয়ান, আজ আর কথা বলতে চাই না।

‎কল কেটে গিয়েছিল।

‎সেদিনের পর তাদের মধ্যে আর কোনো কথা হয়নি।

‎কেউ কাউকে ফোন করেনি।

‎কেউ ক্ষমা চায়নি।

‎কেউ ফিরে আসেনি।

‎সময়ের সঙ্গে তাদের জীবন আলাদা পথে চলে গেল।

‎ছয় বছর পর।

‎আরিয়ান দেশে ফিরেছে।

‎স্থায়ীভাবে।

‎তার কোম্পানি তাকে ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।

‎প্রথম কয়েকদিন নতুন কাজ, নতুন বাসা, নতুন জীবন—সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত ছিল সে।

‎কিন্তু শহরটা তাকে বারবার পুরোনো স্মৃতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

‎একদিন বিকেলে অফিসের একটি মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য সে একটি ক্যাফেতে ঢুকল।

‎দরজা খুলতেই তার চোখ আটকে গেল।

‎ক্যাফের জানালার পাশে বসে আছে একজন মেয়ে।

‎চুলগুলো কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে।

‎হাতে বই।

‎কফির কাপের পাশে রাখা একটি নীল রঙের কলম।

‎আরিয়ান থমকে দাঁড়াল।

‎সে ভুল করতে পারে।

‎কিন্তু সেই মানুষটিকে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই।

‎নীলা।

‎ছয় বছর পর।

‎নীলাও তাকে দেখে ফেলেছিল।

‎দুজনের চোখ এক জায়গায় আটকে গেল।

‎সময় যেন হঠাৎ থেমে গেল।

‎ক্যাফের ভেতরের মানুষের কথা, কফি মেশিনের শব্দ—সবকিছু যেন দূরে সরে গেল।

‎নীলা প্রথমে কিছু বলল না।

‎আরিয়ান ধীরে ধীরে তার টেবিলের কাছে গেল।

‎— কেমন আছ?

‎নীলা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,

‎— ভালো।

‎— তুমি?

‎— আমিও।

‎এত বছর পর দেখা।

‎অথচ কথাগুলো এত ছোট!

‎আরিয়ান চেয়ার টেনে বসে পড়ল।

‎— তোমাকে অনেক কিছু বলতে চেয়েছিলাম।

‎নীলা মৃদু হাসল।

‎— ছয় বছর অনেক লম্বা সময়, আরিয়ান।

‎— জানি।

‎— এখন কেন?

‎আরিয়ান তার চোখের দিকে তাকাল।

‎— কারণ তখন আমি বুঝিনি, কাউকে হারানোর ভয় আর তাকে হারিয়ে ফেলার কষ্ট এক জিনিস নয়।

‎নীলা চুপ করে রইল।

‎— আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিলাম।

‎— দিয়েছিলে।

‎— ক্ষমা করবে?

‎নীলা জানালার বাইরে তাকাল।

‎— জানি না।

‎আরিয়ান মাথা নিচু করল।

‎কিছুক্ষণ পর নীলা বলল,

‎— তুমি কি আবার চলে যাবে?

‎আরিয়ান তার দিকে তাকাল।

‎— না।

‎— নিশ্চিত?

‎— এবার আমি কোথাও যাচ্ছি না।

‎নীলা মৃদু হেসে বলল,

‎— মানুষ বদলায়, আরিয়ান।

‎— হ্যাঁ।

‎— তুমি বদলেছ?

‎আরিয়ান কিছুক্ষণ ভেবে বলল,

‎— আগে ভাবতাম সফলতা মানে অনেক দূরে চলে যাওয়া। এখন বুঝি, সফলতা মানে এমন একটা জায়গায় ফিরে আসা, যেখানে তোমাকে কেউ অপেক্ষা করে।

‎নীলার চোখ ভিজে উঠল।

‎সে মুখ ফিরিয়ে নিল।

‎সেদিন তারা অনেকক্ষণ কথা বলেছিল।

‎পুরোনো দিনের কথা।

‎ভুল বোঝাবুঝির কথা।

‎অভিমান।

‎কষ্ট।

‎আর সেই অসমাপ্ত ভালোবাসার কথা।

‎বিদায় নেওয়ার সময় নীলা বলেছিল,

‎— আমরা কি বন্ধু হতে পারি?

‎আরিয়ান হাসল।

‎— চেষ্টা করতে পারি।

‎তারা আবার যোগাযোগ শুরু করল।

‎কিন্তু এবার সবকিছু ধীরে।

‎কেউ কোনো প্রতিশ্রুতি দিল না।

‎কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে তাড়াহুড়ো করল না।

‎তারা শুধু আবার একে অপরকে চিনতে শুরু করল।

‎নীলা বুঝল, আরিয়ান সত্যিই বদলেছে।

‎আরিয়ান বুঝল, নীলা এখনও সেই মেয়েটিই আছে—শুধু তার চোখে এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞতা।

‎একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল।

‎নীলা অফিস থেকে বের হয়ে দেখল, গেটের সামনে আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।

‎হাতে একটি ছাতা।

‎নীলা অবাক হয়ে বলল,

‎— তুমি এখানে?

‎— তোমাকে নিতে এসেছি।

‎— কেন?

‎— কারণ আজ তোমার ছাতা নেই।

‎নীলা হেসে বলল,

‎— ছয় বছর পরেও তুমি আমার ছাতা ভুলে যাওয়ার অভ্যাসটা মনে রেখেছ?

‎আরিয়ানও হাসল।

‎— কিছু জিনিস মানুষ ভুলতে চাইলেও পারে না।

‎তারা একই ছাতার নিচে হাঁটতে শুরু করল।

‎রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে ছিল।

‎চারপাশে গাড়ির আলো।

‎নীলা হঠাৎ থেমে গেল।

‎— আরিয়ান?

‎— হুম?

‎— একটা কথা বলব?

‎— বলো।

‎— সেদিন ফোন কেটে দেওয়ার পর আমি অনেক কেঁদেছিলাম।

‎আরিয়ানের মুখটা ভার হয়ে গেল।

‎— জানি।

‎— না, জানো না।

‎নীলা মৃদু হেসে বলল,

‎— আমি তোমাকে ঘৃণা করতে চেয়েছিলাম। অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি।

‎আরিয়ান চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

‎— কারণ?

‎নীলা চোখ নামিয়ে বলল,

‎— কারণ ভালোবাসা কখনো কখনো অভিমানের চেয়েও জেদি হয়।

‎আরিয়ান ধীরে তার হাতটা ধরল।

‎এইবার নীলা হাত সরিয়ে নিল না।

‎কয়েক মাস পর।

‎এক শীতের সন্ধ্যায় তারা সেই পুরোনো নদীর ধারে বসেছিল, যেখানে ছয় বছর আগে বিদায়ের কথা হয়েছিল।

‎আকাশে অসংখ্য তারা।

‎শহরের আলো দূরে ঝিলমিল করছে।

‎আরিয়ান বলল,

‎— মনে আছে, তুমি বলেছিলে প্রতিশ্রুতি দিতে নেই?

‎নীলা হাসল।

‎— মনে আছে।

‎— এবার একটা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই।

‎নীলা তার দিকে তাকাল।

‎— কী?

‎আরিয়ান বলল,

‎— আমি তোমাকে কখনো বলব না যে আমি সবসময় ঠিক থাকব। কারণ আমি মানুষ। ভুল করব। কখনো তোমাকে কষ্টও দিতে পারি।

‎সে একটু থামল।

‎— কিন্তু একটা জিনিসের প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। কোনো সমস্যা হলে এবার আমি পালিয়ে যাব না। কথা বলব। তোমাকে বুঝব। আর যদি কখনো দূরত্ব আসে, আমরা দুজন মিলে সেটা কমানোর চেষ্টা করব।

‎নীলার চোখে জল এসে গেল।

‎— এতদিনে শিখলে?

‎আরিয়ান মৃদু হেসে বলল,

‎— কিছু শিক্ষা পেতে ছয় বছর লাগে।

‎নীলা তার হাত ধরে বলল,

‎— আর কিছু মানুষকে হারিয়ে বুঝতে হয়, তারা কতটা প্রয়োজনীয় ছিল।

‎আরিয়ান তার হাতটা শক্ত করে ধরল।

‎— এবার হারাবে না।

‎নীলা মাথা নেড়ে বলল,

‎— এবার না।

‎দূরে একটি ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল।

‎নীলা হেসে বলল,

‎— দেখেছ? শেষ ট্রেনটাও চলে যাচ্ছে।

‎আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে বলল,

‎— আমাদের ট্রেনটা কিন্তু এবার মিস হবে না।

‎নীলা হেসে ফেলল।

‎আর সেই হাসির মধ্যে ছয় বছর আগের সেই মেয়েটাকে আবার দেখতে পেল আরিয়ান।

‎শহর তখনও ব্যস্ত।

‎রাস্তায় গাড়ি ছুটছে।

‎মানুষ ঘরে ফিরছে।

‎কোথাও বৃষ্টি নামছে।

‎কোথাও আলো জ্বলছে।

‎কিন্তু তাদের পৃথিবীতে সেদিন শুধু দুজন মানুষ ছিল।

‎দুজন মানুষ, যারা একে অপরকে হারিয়েছিল।

‎দুজন মানুষ, যারা অপেক্ষা করেছিল।

‎আর দুজন মানুষ, যারা অবশেষে বুঝেছিল—

‎সত্যিকারের ভালোবাসা সবসময় কাছে থাকে না। কখনো কখনো সে দূরে যায়, নীরব হয়, অভিমান করে। কিন্তু যদি দুজন মানুষ সত্যিই একে অপরের জন্য তৈরি হয়, তাহলে যত দীর্ঘ পথই হোক, কোনো না কোনো এক সন্ধ্যায় তাদের পথ আবার এক হয়ে যায়।

‎আর সেই সন্ধ্যায়, শেষ ট্রেন চলে যাওয়ার আগেই, আরিয়ান আর নীলা আবার পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল।

‎এবার আর কেউ তাদের থামানোর ছিল না।

মন্তব্যসমূহ